সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ তুলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিসহ ৩ কর্মকর্তার প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ বিক্ষোভ ও মানবন্ধন পালন করেছে নিহতের স্বজনও এলাকাবাসী।এ সময়ে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কও অবরোধ করেছেন। নিমাইকাশারী এলাকার সর্বস্থরের জনগণ লেখা ব্যানারে গতকাল শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ২ টায় ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ,হাসড়ক অবরোধের কারণে প্রায় পোণে ১ ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ থাকায় মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে সৃষ্টি হয় যানজট।
মানবন্ধনে নিহতের স্ত্রী মোনালিসা কানন ইভা আক্তার বলেন, আমার স্বামী মাকসুদুল হাসান জনি হত্যাকাÐের রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম, সেকেন্ড অফিসার মাহবুব হাসান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক বজলুর রহমানকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছি। আমার স্বামীর লাশ উদ্ধারের দিন মামলা করার আগেই এলাকার লোকজন নৈশপ্রহরী আলমগীর, তার ছেলে ইমন ও আকাশ নামে আরেক তরুনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। ইভা আক্তার আরও বলেন আমার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার আগ মুহুর্তে ইমন দুবার তাকে খুঁজতে বাড়িতে আসে। মামলা হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমান আমাদের জানান, গ্রেপ্তার আলমগীর আদালতে স্বীকারোক্তী দিয়ে যাদের নাম বলেছে তাদের নামে মামলা হবে। আমরা যাদেরকে মামলার আসামি করতে চেয়েছিলাম পুলিশ তাদের নাম দেয়নি। আমরা ইমনকে আসামি করতে চাইলেও পুলিশ করেনি। তাকে অন্য একটি মামলায় আদালতে পাঠায়। আমরা প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, আলমগীরের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ওসি স্যারের নির্দেশে মামলা হয়েছে।
নিহতের পিতা মামলার বাদী শুক্কুর আলী বলেন, মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছেন না। ময়না তদন্তের রিপোর্ট বিষয় জানতে চাইলে এস আই বজলুর রহমান বাজে আচরণ করে থানা থেকে বের করে দেন। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ওসি শাহীনুর আলম, সেকেন্ড অফিসার এসআই মাহবুব হাসান, ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বজলুর রহমান বলেন এটা চুরির ঘটনা। চুরির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে আমার ছেলে খুন করা হয়েছে। খুনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন না করেই পুলিশ আমার ছেলেকে চোর বলে মামলার তদন্তে গাফিলতি করছে। তাই এসব পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। সিদ্বিরগঞ্জ থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে এলাকাবাসীরা জানান। গত ৪ মাসে ৯ টি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম আলম বলেন, মামলার এজাহার নামীয় ৭ জন আসামির মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরার চেষ্টা করছি। গ্রেপ্তার আসামিরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে চুরি করা টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্ধের জেরে হত্যার ঘটনা ঘটে। মামলার তদন্তকাজে অবহেলা বা আসামিদের বাঁচানোর চেষ্টার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
উল্লেখ্য, নিখোঁজের ৩ দিন পর গত ১৮ জুলাই দুপুরে নিমাইকাশারী এলাকার নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে মাকসুদুল হাসান জনির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ১৯ জুলাই জনির পিতা শুক্কুর আলী বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ ও ৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। বিক্ষোভ মিছির ও মানবন্ধনে উপস্তিত ছিলেন নিহত জনির বাবা শুকুর আলী, শাশুড়ী মমতাজ বেগম, মা মাজেদা বেগম, বোন সুমাইয়া আক্তার, বড় ভাই জুয়েল ও ছোট ভাই ফাহিমসহ এলাকাবাসী।